Menu Search

ads

Labels

Samsung নামের উৎপত্তি কী? স্যামসাং নামের অর্থ, ইতিহাস ও অজানা তথ্য!
October 11, 2026 |

বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তির জগতে Samsung একটি অত্যন্ত পরিচিত নাম। স্মার্টফোন, টেলিভিশন, ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন, কম্পিউটার মনিটর, মেমোরি চিপসহ বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক পণ্য তৈরির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বজুড়ে পরিচিতি অর্জন করেছে। বিশেষ করে Samsung Galaxy সিরিজের স্মার্টফোন বাংলাদেশের মানুষের কাছেও বেশ জনপ্রিয়।

কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, Samsung নামটি কোথা থেকে এসেছে? এই নামের অর্থ কী? কে এই নাম রেখেছিলেন? আর একটি ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কীভাবে বিশ্বের অন্যতম বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হলো?

Samsung নামের পেছনে রয়েছে একটি সুন্দর অর্থ, একজন উদ্যোক্তার স্বপ্ন এবং কয়েক দশকের ব্যবসায়িক ইতিহাস। এই আর্টিকেলে স্যামসাং নামের উৎপত্তি থেকে শুরু করে এর লোগো, প্রতিষ্ঠাতা, প্রথম ব্যবসা, ইলেকট্রনিকস জগতে প্রবেশ এবং বর্তমান পরিচিতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

১. Samsung নামের অর্থ কী?

Samsung একটি কোরীয় শব্দ। কোরীয় ভাষায় Samsung (삼성) শব্দটির অর্থ হলো তিনটি তারা (Three Stars)। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ব্র্যান্ড ইতিহাসেও এই অর্থের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

সহজভাবে বললে:

  • Sam (삼): তিন বা Three
  • Sung (성): তারা বা Star

এই দুটি অংশ মিলিয়ে Samsung নামের অর্থ দাঁড়ায় Three Stars বা তিনটি তারা। তবে নামটির তাৎপর্য শুধু তিনটি তারার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে প্রতিষ্ঠাতার ব্যবসায়িক স্বপ্ন ও প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সম্পর্ক রয়েছে। সূত্র: Samsung-এর অফিসিয়াল ব্র্যান্ড ইতিহাস

২. Samsung নামটি কেন রাখা হয়েছিল?

Samsung-এর প্রতিষ্ঠাতা Lee Byung-chull চেয়েছিলেন তাঁর প্রতিষ্ঠান যেন আকাশের তারার মতো উজ্জ্বল, শক্তিশালী এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, নামের দুটি অংশের প্রতীকী অর্থ রয়েছে।

তিন সংখ্যাটি কী বোঝায়?

তিন সংখ্যাটি বড়, প্রচুর এবং শক্তিশালী হওয়ার ধারণার সঙ্গে যুক্ত।

তারা কী বোঝায়?

তারা উজ্জ্বলতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং দীর্ঘস্থায়ীভাবে জ্বলজ্বল করার প্রতীক।

এই ধারণা থেকেই Samsung নামটি প্রতিষ্ঠাতার স্বপ্নকে প্রকাশ করে। তিনি শুধু একটি ছোট ব্যবসা গড়ে তুলতে চাননি; বরং এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার লক্ষ্য করেছিলেন, যা সময়ের সঙ্গে বড় হবে এবং দীর্ঘদিন ধরে নিজের পরিচিতি ধরে রাখবে।

অর্থাৎ, Samsung নামটির মধ্যে রয়েছে বড় হওয়ার আকাঙ্ক্ষা, শক্তিশালী হওয়ার প্রত্যাশা এবং দীর্ঘস্থায়ী সাফল্যের প্রতীকী বার্তা।

৩. Samsung প্রতিষ্ঠা করেন কে?

Samsung প্রতিষ্ঠা করেন দক্ষিণ কোরিয়ার উদ্যোক্তা Lee Byung-chull (লি বিয়ং-চুল)।

তিনি ১ মার্চ ১৯৩৮ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার দেগু (Daegu) শহরে Samsung-এর প্রাথমিক ব্যবসা শুরু করেন। তখন এটি আজকের মতো কোনো স্মার্টফোন বা ইলেকট্রনিকস কোম্পানি ছিল না। বরং এটি ছিল একটি ছোট বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান।

প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটি শুকনো মাছ, স্থানীয় খাদ্যপণ্য, শাকসবজি, ফলমূল এবং নুডলসের মতো পণ্য কেনাবেচা করত। পরবর্তী সময়ে ব্যবসার পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে Samsung বিভিন্ন নতুন শিল্পে প্রবেশ করে।

Samsung-এর অফিসিয়াল ইতিহাস অনুযায়ী, ১৯৩৮ সালের এই ছোট ব্যবসাই পরবর্তীকালে একটি বৃহৎ ব্যবসায়িক গোষ্ঠীতে পরিণত হওয়ার ভিত্তি তৈরি করে।

৪. Samsung-এর যাত্রা শুরু হয়েছিল কীভাবে?

বর্তমানে Samsung নাম শুনলে আমাদের প্রথমেই স্মার্টফোনের কথা মনে পড়ে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির যাত্রার শুরুতে স্মার্টফোন, কম্পিউটার বা আধুনিক প্রযুক্তির কোনো ভূমিকা ছিল না।

১৯৩৮ সালে Lee Byung-chull একটি ছোট ট্রেডিং ব্যবসা শুরু করেন। সেই সময় প্রতিষ্ঠানটির মূল কাজ ছিল স্থানীয়ভাবে পণ্য সংগ্রহ করে বিক্রি করা এবং কিছু পণ্য অন্য জায়গায় সরবরাহ করা।

প্রতিষ্ঠানটি প্রথম থেকেই প্রযুক্তি নির্মাতা ছিল না। ধীরে ধীরে ব্যবসা সম্প্রসারণের মাধ্যমে তারা খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, বস্ত্রশিল্প, বীমা, বাণিজ্য এবং অন্যান্য খাতে প্রবেশ করে।

এই বৈচিত্র্যময় ব্যবসার অভিজ্ঞতা Samsung-কে পরবর্তী সময়ে বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, Samsung নামটি ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হলেও Samsung Electronics-এর যাত্রা শুরু হয় পরে, ১৯৬৯ সালে। এই দুটি তারিখকে এক মনে করা ঠিক নয়।

৫. Samsung Electronics কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?

Samsung Electronics প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৯ সালে। প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস অনুযায়ী, ১৯৬৮ সালের শেষ দিকে ইলেকট্রনিকস ব্যবসায় প্রবেশের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। এরপর Samsung Electronics Corporation আনুষ্ঠানিকভাবে ১৩ জানুয়ারি ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

এই সময় Samsung ইলেকট্রনিকস শিল্পে নতুনভাবে যাত্রা শুরু করে। প্রথম দিকে তাদের লক্ষ্য ছিল টেলিভিশনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদন করা।

১৯৭০ সালে Samsung-Sanyo সাদা-কালো টেলিভিশনের একটি মডেল বাজারে আনে। এরপর ধীরে ধীরে টেলিভিশন ও অন্যান্য গৃহস্থালি ইলেকট্রনিক পণ্যের উৎপাদন বাড়তে থাকে।

এভাবেই একটি সাধারণ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান প্রযুক্তি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হওয়ার পথে এগিয়ে যায়।

৬. Samsung-এর প্রথম ব্যবসা কী ছিল?

অনেকেই মনে করেন Samsung শুরু থেকেই মোবাইল ফোন বা ইলেকট্রনিক পণ্য তৈরি করত। বাস্তবে বিষয়টি সম্পূর্ণ আলাদা।

Samsung-এর প্রাথমিক ব্যবসা ছিল সাধারণ পণ্যের বাণিজ্য। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল:

১. শুকনো মাছ কেনাবেচা।

২. ফলমূল ও শাকসবজি সরবরাহ।

৩. নুডলসসহ স্থানীয় খাদ্যপণ্যের ব্যবসা।

৪. অন্যান্য বাণিজ্যিক পণ্য সংগ্রহ ও বিতরণ।

প্রতিষ্ঠানটি শুরুতে ছোট পরিসরে কাজ করলেও পরবর্তী সময়ে ব্যবসার ধরন পরিবর্তন করে। প্রথমে বিভিন্ন বাণিজ্যিক খাতে প্রবেশ করে এবং পরে শিল্প উৎপাদন ও ইলেকট্রনিকসের দিকে মনোযোগ দেয়।

এই ইতিহাস থেকে বোঝা যায়, একটি প্রতিষ্ঠান সব সময় একই ধরনের ব্যবসায় সীমাবদ্ধ থাকে না। বাজারের চাহিদা, নতুন সুযোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ভিত্তিতে ব্যবসার ধরন বদলাতে পারে।

৭. Samsung-এর লোগোর সঙ্গে তিনটি তারার সম্পর্ক কী?

Samsung নামের অর্থ তিনটি তারা হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির পুরোনো লোগোতেও তারার প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছিল।

পুরোনো লোগোগুলোতে তিনটি তারাকে বিভিন্ন নকশায় দেখা যেত। এগুলো প্রতিষ্ঠানের নাম ও প্রতিষ্ঠাতার স্বপ্নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল।

তবে বর্তমানে আমরা যে Samsung লোগো দেখি, সেটি আগের লোগোর মতো নয়। ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠানটি নতুন করপোরেট পরিচিতি গ্রহণ করে। সেই পরিবর্তনের অংশ হিসেবে নীল রঙের উপবৃত্তাকার পটভূমির ওপর সাদা অক্ষরে Samsung লেখা লোগোটি পরিচিতি লাভ করে।

পরবর্তীকালে ব্র্যান্ডের উপস্থাপন আরও সরল করা হয়। এখন সাধারণত নীল বা কালো অক্ষরে Samsung লেখা দেখা যায়; অনেক ক্ষেত্রে কোনো উপবৃত্তাকার পটভূমি থাকে না।

এখানে মনে রাখা প্রয়োজন, লোগোর নকশা পরিবর্তিত হলেও Samsung নামের ঐতিহাসিক অর্থ পরিবর্তিত হয়নি।

৮. Samsung নামের সঙ্গে Galaxy নামটি কীভাবে যুক্ত হলো?

Samsung-এর স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে Galaxy নামটি বিশেষভাবে পরিচিত। Samsung Galaxy বলতে মূলত Samsung-এর স্মার্টফোন ও সংশ্লিষ্ট মোবাইল ডিভাইসের একটি ব্র্যান্ড পরিবারকে বোঝানো হয়।

Galaxy শব্দের সাধারণ ইংরেজি অর্থ হলো ছায়াপথ বা নক্ষত্রপুঞ্জের বিশাল জগৎ। এই শব্দটি Samsung-এর বিভিন্ন মোবাইল পণ্যের নামের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

উদাহরণ:

  • Samsung Galaxy S সিরিজ
  • Samsung Galaxy A সিরিজ
  • Samsung Galaxy Z সিরিজ
  • Samsung Galaxy Tab
  • Samsung Galaxy Watch

তবে Samsung এবং Galaxy একই নাম নয়। Samsung হলো মূল ব্র্যান্ডের নাম, আর Galaxy হলো সেই ব্র্যান্ডের অধীনে ব্যবহৃত একটি পরিচিত পণ্য-পরিবারের নাম।

Samsung-এর ঐতিহাসিক নামের অর্থ তিনটি তারা হলেও Galaxy নামটি আলাদা শব্দ এবং আলাদা ব্র্যান্ডিং ধারণার প্রতিনিধিত্ব করে।

৯. Samsung কীভাবে মোবাইল ফোনের বাজারে জনপ্রিয় হলো?

Samsung ধাপে ধাপে টেলিভিশন, গৃহস্থালি ইলেকট্রনিকস, যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে নিজেদের অবস্থান তৈরি করে।

১৯৮০-এর দশকে গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানটির প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। পরবর্তী সময়ে মেমোরি চিপ, টেলিযোগাযোগ এবং উন্নত ইলেকট্রনিকস পণ্যে তাদের কার্যক্রম বিস্তৃত হয়।

মোবাইল ফোনের বাজারে Samsung-এর পরিচিতি বাড়ার পেছনে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ:

প্রথমত, বিভিন্ন বাজেটের ফোন: কম ও মাঝারি বাজেট থেকে শুরু করে প্রিমিয়াম পর্যায় পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের ডিভাইস তৈরি করা।

দ্বিতীয়ত, ডিসপ্লে প্রযুক্তি: উন্নত ডিসপ্লে এবং AMOLED প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ Samsung-এর স্মার্টফোনকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।

তৃতীয়ত, ক্যামেরা ও সফটওয়্যার: সময়ের সঙ্গে ক্যামেরা, নিরাপত্তা, সফটওয়্যার এবং ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতায় উন্নতি আনা।

চতুর্থত, গবেষণা ও উন্নয়ন: নতুন প্রযুক্তি তৈরি এবং নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া।

পঞ্চমত, আন্তর্জাতিক বাজার: দক্ষিণ কোরিয়ার বাইরে বিভিন্ন দেশে পণ্য সরবরাহ ও ব্যবসা সম্প্রসারণ করা।

এই বিষয়গুলো সম্মিলিতভাবে Samsung-কে বিশ্বব্যাপী পরিচিত প্রযুক্তি ব্র্যান্ডে পরিণত হতে সাহায্য করেছে।

১০. Samsung কি শুধু মোবাইল ফোন তৈরি করে?

না। Samsung-কে শুধু মোবাইল ফোনের কোম্পানি বলা হলে এর প্রকৃত ব্যবসার পরিধি বোঝা যাবে না।

Samsung নামের অধীনে বা Samsung ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অনেক ধরনের পণ্য ও সেবা পরিচালিত হয়।

উদাহরণস্বরূপ:

  • স্মার্টফোন: Galaxy সিরিজের ফোন।
  • টেলিভিশন: LED, QLED এবং অন্যান্য প্রযুক্তির টিভি।
  • গৃহস্থালি পণ্য: ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন, এয়ার কন্ডিশনার।
  • ডিসপ্লে: বিভিন্ন ধরনের স্ক্রিন ও ডিসপ্লে প্রযুক্তি।
  • সেমিকন্ডাক্টর: মেমোরি চিপ এবং অন্যান্য চিপ।
  • কম্পিউটার উপকরণ: SSD, মেমোরি ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ।
  • পরিধানযোগ্য ডিভাইস: স্মার্টওয়াচ ও ইয়ারবাডের মতো পণ্য।

এ ছাড়া Samsung ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর সঙ্গে নির্মাণ, বীমা ও অন্যান্য শিল্পের প্রতিষ্ঠানও যুক্ত। তবে সব Samsung-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান একই কোম্পানি বা একই ব্যবসায়িক বিভাগের অংশ নয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কার্যক্রম ও ব্যবস্থাপনা রয়েছে।

১১. Samsung নামটি কি ইংরেজি শব্দ?

না, Samsung মূলত কোরীয় ভাষা থেকে আসা একটি নাম। আন্তর্জাতিক বাজারে সহজে ব্যবহার করার জন্য এটি ইংরেজি অক্ষরে Samsung হিসেবে লেখা হয়।

কোরীয় ভাষায় নামটি লেখা হয় 삼성।

বাংলায় সাধারণত একে স্যামসাং বলা হয়। ইংরেজিতে এর বানান Samsung।

নামটির উৎপত্তি কোরীয় ভাষায় হওয়ায় এর অর্থ বুঝতে হলে কোরীয় শব্দের অর্থ ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট জানতে হয়। শুধু ইংরেজি অক্ষর দেখে Samsung শব্দটির অর্থ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

১২. Samsung নামের পেছনে কী শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে?

Samsung-এর ইতিহাস শুধু একটি ব্র্যান্ডের নামের ব্যাখ্যা নয়; এটি ব্যবসা সম্প্রসারণ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনারও একটি উদাহরণ।

এর ইতিহাস থেকে কয়েকটি বিষয় শেখা যায়।

১. ছোট থেকে বড় হওয়ার সুযোগ রয়েছে

একটি প্রতিষ্ঠান ছোট পরিসরে শুরু হলেও পরিকল্পনা, পরিশ্রম এবং উপযুক্ত সুযোগ কাজে লাগিয়ে বড় হতে পারে।

২. ব্যবসার ধরন পরিবর্তন করা সম্ভব

Samsung খাদ্যপণ্য ও সাধারণ বাণিজ্য দিয়ে শুরু করেছিল। পরবর্তী সময়ে নতুন শিল্পে প্রবেশ করেছে। এটি দেখায়, বাজারের চাহিদা অনুযায়ী ব্যবসার কৌশল পরিবর্তন করা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

৩. ব্র্যান্ডের নামের অর্থ থাকতে পারে

Samsung নামটি প্রতিষ্ঠাতার স্বপ্ন ও প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে একটি প্রতীকী ধারণা প্রকাশ করে। অর্থপূর্ণ নাম একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি তৈরিতে সহায়ক হতে পারে।

৪. প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ

গবেষণা, উন্নয়ন এবং উৎপাদন সক্ষমতায় বিনিয়োগ Samsung-এর প্রযুক্তিগত অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।

৫. দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য প্রয়োজন

একটি প্রতিষ্ঠানকে শুধু বর্তমান লাভের কথা ভাবলে চলে না; ভবিষ্যতে কোথায় পৌঁছাতে চায়, সেটিও নির্ধারণ করা দরকার।

অবশ্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সাফল্য শুধু একটি নাম বা একটি সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে না। ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তি, বাজার, প্রতিযোগিতা, অর্থায়ন এবং গ্রাহকের চাহিদাসহ বহু বিষয় এতে ভূমিকা রাখে।

১৩. Samsung সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

বিষয় তথ্য
ব্র্যান্ডের নাম Samsung
নামের মূল ভাষা কোরীয়
নামের অর্থ তিনটি তারা
প্রতিষ্ঠাতা Lee Byung-chull
প্রাথমিক প্রতিষ্ঠার তারিখ ১ মার্চ ১৯৩৮
প্রাথমিক ব্যবসা সাধারণ পণ্যের বাণিজ্য
Samsung Electronics প্রতিষ্ঠা ১৯৬৯
পুরোনো লোগোর প্রতীক তিনটি তারা
আধুনিক প্রযুক্তিগত পরিচিতি স্মার্টফোন, টিভি, চিপ ও ইলেকট্রনিকস

তথ্যগুলো Samsung-এর অফিসিয়াল ব্র্যান্ড ইতিহাস এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত ইতিহাসের ভিত্তিতে সংক্ষেপ করা হয়েছে।

১৪. Samsung নাম সম্পর্কে প্রচলিত কয়েকটি ভুল ধারণা

ভুল ধারণা ১: Samsung নামের অর্থ মোবাইল ফোন।

এটি ভুল। Samsung নামের অর্থ কোরীয় ভাষায় তিনটি তারা।

ভুল ধারণা ২: Samsung শুরু থেকেই স্মার্টফোন তৈরি করত।

এটিও ভুল। প্রতিষ্ঠানটির প্রাথমিক ব্যবসা ছিল সাধারণ পণ্যের বাণিজ্য। ইলেকট্রনিকস ব্যবসায় প্রবেশ ঘটে অনেক পরে।

ভুল ধারণা ৩: Samsung এবং Samsung Electronics একই ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠা-তারিখের নাম।

এখানে পার্থক্য রয়েছে। Samsung-এর প্রাথমিক ব্যবসা শুরু হয় ১৯৩৮ সালে, আর Samsung Electronics প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৯ সালে।

ভুল ধারণা ৪: বর্তমান Samsung লোগোতে তিনটি তারা স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

বর্তমান পরিচিত লোগোতে সাধারণত Samsung লেখা থাকে। তিনটি তারা মূলত পুরোনো লোগোর ঐতিহাসিক প্রতীক।

ভুল ধারণা ৫: Galaxy শব্দের অর্থও Samsung-এর মতো তিনটি তারা।

এটিও সঠিক নয়। Galaxy ইংরেজি শব্দ, যার অর্থ ছায়াপথ। Samsung নামের অর্থ তিনটি তারা।

উপসংহার

Samsung নামটি কেবল একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের পরিচয় নয়; এর পেছনে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার ভাষা, একজন উদ্যোক্তার স্বপ্ন এবং দীর্ঘ ব্যবসায়িক ইতিহাস।

কোরীয় ভাষায় Samsung অর্থ তিনটি তারা। প্রতিষ্ঠাতা Lee Byung-chull চেয়েছিলেন তাঁর প্রতিষ্ঠান যেন আকাশের তারার মতো উজ্জ্বল, শক্তিশালী এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়। ১৯৩৮ সালে সাধারণ পণ্যের ব্যবসা দিয়ে শুরু হওয়া প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে বিভিন্ন শিল্পে প্রবেশ করে। ১৯৬৯ সালে Samsung Electronics প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইলেকট্রনিকস জগতে তাদের নতুন অধ্যায় শুরু হয়।

আজ Samsung নামটি বিশ্বজুড়ে স্মার্টফোন, টেলিভিশন, মেমোরি চিপ, ডিসপ্লে এবং নানা প্রযুক্তিপণ্যের সঙ্গে যুক্ত। এর ইতিহাস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, একটি প্রতিষ্ঠানের বর্তমান পরিচিতি বুঝতে হলে তার নামের অর্থের পাশাপাশি শুরুর গল্প, সিদ্ধান্ত এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও জানতে হয়।

সবশেষে বলা যায়, Samsung নামের অর্থ তিনটি তারা হলেও এর আসল গল্প হলো একটি ছোট ব্যবসার ধীরে ধীরে বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি ব্র্যান্ডে পরিণত হওয়ার গল্প।

তথ্যসূত্র

১. Samsung UK — Brand Heritage and Meaning of Samsung

২. Samsung Global Newsroom — 20 Things You Didn’t Know About Samsung

৩. Samsung Global Newsroom — The History of Samsung Electronics (1968–1970)

৪. Samsung Global Strategy Group — Samsung History